চৌদ্দগ্রামে বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ারুল হক (২৮) নামের একহন মাটি কাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার বারগরিয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। দুপুরে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের খিরনশাল- লনিশ্বর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার মুন্সীরহাট ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন মজুমদার রানা। এসময় আহত হয়েছেন আরেক শ্রমিক একই এলাকার মজিবুর রহমান। আহত মজিবুর রহমান জানান, লনিশ্বর গ্রামের মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের কৃষি জমিতে সকাল থেকে মাটি কাটার কাজ করছিলাম আমরা ১০/১২ জন শ্রমিক। দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে থেমে থেমে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারুল হকের মৃত্যু হয়। আমাদের শোর চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবুল হাসেম জানান, বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মধ্যে আনোয়ারুল হক নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে? মজিবুর রহমান নামের আরেক জনকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়েছে।
কালাইয়ে হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে সংরক্ষিত আলুর জন্য হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গত রোববার জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে কালাই পৌরসভার আর বি হিমাগারের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। আলুচাষি আব্দুল আজিজ মণ্ডল, ফজলুল হক, রকি মিয়া, মাফু, বেলাল হোসেন, রানা মিয়া, আব্দুল মোত্তালেব, সাইফুল, জহুরুল, মোস্তাফিজুর রহমান, আয়নাল, আলিমসহ অনেকে জানান, গত বছর আলু সংরক্ষণের ভাড়া ছিল প্রতি কেজি ৪ টাকা। প্রতি বস্তা ছিল ২৭০ থেকে ২৯০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এবার দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি সাড়ে পাঁচ টাকা ও বস্তাপ্রতি ৩৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা আরো জানান, উপজেলায় মোট ১১টি হিমাগার একই হারে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, যা পার্শ্ববর্তী জেলা এবং উপজেলাগুলোতে প্রতি বস্তা সংরক্ষণের জন্য ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৯০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া কমিয়ে আগের ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বগুড়ায় মাছের বরফে তৈরি নিম্নমানের শরবত বিক্রি
বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মাছের জন্য ব্যবহার করা বরফে তৈরি নিম্নমানের শরবত। প্রচণ্ড তাবদাহে শ্রমজীবী ও পথচারী মানুষেরা তৃষ্ণা মেটাতে নির্বিঘ্নে পান করছে এসব শরবত। এই শরবতে নিম্নমানের বরফ, সেকারিন, ঘনচিনি, রং ও বীট লবণ মিশ্রণের কারণে মানুষের দেহে নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, বগুড়া শহরে যত্রতত্র বরফ ও বীট লবণ মিশ্রিত লেবু বা ইনস্ট্যান্ট পাউডার মিশ্রিত শরবত বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। তীব্র তাবদাহে এই শরবত সাধারণ পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও মানুষের শরীরের নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শহরের সাতমাথা, বড়গোলার মোড়, জজকোর্ট, চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশনসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্থানে প্রতিদিন এসব শরকত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য শরবতের দোকান যার অধিকাংশই ভ্রাম্যমাণ। ছোট ভ্যানের ওপর একটি ফিল্টার, কিছু লেবুসহ নিম্নমানের বরফ এবং বিভিন্ন কোম্পানির ইনস্ট্যান্ট পাউডারের ছোট প্যাকেট দিয়েই সাজানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ এসব দোকান। শরবত তৈরিতে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে খোলা অবস্থায় ভেঙে রাখা হয়েছে বেলগুলো। ধুলোবালি মাখা এসব বেল দেয়া হচ্ছে শরবতে। শরবত বিক্রেতা রমজান আলী জানান, শরবত তৈরিতে বিভিন্ন কোম্পানির ইনস্ট্যান্ট পাউডার ব্যবহার করা হয়। এটা স্বাস্থ্যসম্মত কি না জানা নেই। এই গরমে শরবতের চাহিদা প্রচুর। তিনি আরও জানান, ফতেহ আলী বাজারের বরফকলগুলোতে দুই ধরনের বরফের পাটালী পাওয়া যায়। একটি মাছ সংরক্ষণ ও অপরটি খাবার জন্য। এর মধ্যে মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি বরফের মূল্য তুলনামূলক অনেক কম। রিকশা চালক আব্দুস সাত্তার জানান, তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে শরবত খাচ্ছি। শরবত পান করে তৃষ্ণা এবং তুপ্তি দুটোই পাই। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কি না তা জানা নেই। ভালো লাগে তাই খাই।
ফতেহ আলী বাজারের বরফকল মিলের কর্মচারী জানান, চেনা অচেনা অনেক মানুষ আমাদের বরফ মিলে এসে বরফ কিনে নিয়ে যায়। কি কাজের জন্য কিনছে তা জানা যায় না। আমাদের বরফ মিলে সাধারণত মাছ সংরক্ষণের জন্য আর খাবারের জন্য দুই ধরনের বরফ তৈরি করে করা হয়। মাছ ব্যবসায়ী পাশাপাশি কিছু অচেনা মানুষ আসে বরফ নিতে। তারা কি কাজে ব্যবহার করে এটা জানা নেই। তবে শুনেছি শহরের মধ্যে লেবু পানি বিক্রি করে এমন অনেকেই বরফ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার বগুড়া জেলা সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাছ সংরক্ষণের বরফ ও অনুমোদনহীন ইনস্ট্যান্ট পাউডার মিশিয়ে শরবত বিক্রির বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। আমরা অচিরেই ব্যবস্থা নিবো। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শফিউল আজম জানান, চলমান তাবদাহের সময়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ খাবার পানির বিকল্প নেই। গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা, বরফ পানি কিংবা অনিরাপদ পানি পান করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে য়ায়। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বাইরের কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত শরবত থেকে দূরে থাকায় উচিত।
রাজশাহীতে স্বাচিপের ৪ জেলার সম্মেলন
রাজশাহী প্রতিনিধি
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাচিপের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। প্রধান বক্তা ছিলেন স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী। জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাস এতে সভাপতিত্ব করেন।
স্বাচিপের রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. তবিবুর রহমান শেখ, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা প্রমুখ।
রাজবাড়ীতে দুই মাদক বিক্রেতার যাবজ্জীবন
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে দুই মাদক বিক্রেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের রায় দেয়া হয়। গত রোববার দুপুরে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর অতিরিক্ত দায়রা জজ জান্নাতুন লিলিফা আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা হলেন, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল মসজিদপাড়া গ্রামের মৃত আবজাল উদ্দিন খোকা মিয়ার ছেলে মো. আশ্রাফুল ইসলাম দুলাল ও একই উপজেলার বটতৈল মোড় পাড়া মো. সিরাজ খাঁ-এর ছেলে মো. আ. আলীম।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর বিকালে এসআই আবু সায়েম গোয়ালন্দ পদ্মার মোড় থেকে একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে চালকসহ আওলাদ হোসেন এবং শাহ আলমকে আটক করে।
এ সময় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বহনকারী প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৮৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। পরে উপস্থিত সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে পুলিশ বাদী হয়ে গেয়ালন্দ থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

২১ তারিখের ৬ এর পাতার বাকী সব নিউজ
- আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৪ ০২:৪৮:১১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৪ ০২:৪৮:১১ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ